চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সংকুচিত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন।
চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সংকুচিত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিনশুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর ওই বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্ট্যাটাসে মনিরা শারমিন লেখেন, “আজ ঐতিহাসিক বাকশাল পতন দিবস। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন কায়েম করে শান্তিপূর্ণ ও আইনি পথে ক্ষমতা হস্তান্তরের সব পথ রুদ্ধ করেছিলেন শেখ মুজিব। যার ফলে শেখ পরিবারের মর্মান্তিক পরিণতির মধ্য দিয়ে বাকশালী একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে।”ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে তৎকালীন সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু করা হয়। একই সঙ্গে সংসদের ক্ষমতা সীমিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন আনা হয়।
পরবর্তীতে একই বছরের ৭ জুন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ—বাকশাল—গঠিত হয়। Banglapedia-এর তথ্য অনুযায়ী, বাকশালকে দেশের একমাত্র আইনগতভাবে স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কাঠামো তৈরি করা হয়।বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তনের সময় প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসনে গভর্নরভিত্তিক নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হয় এবং দেশের জেলা কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনার কারণে এসব পরিকল্পনা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
এ সময় সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৭৫ সালের জুনে সংবাদপত্রসংক্রান্ত বিধানের মাধ্যমে চারটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পত্রিকা ছাড়া অন্য সংবাদপত্রগুলোর প্রকাশনার সুযোগ বাতিল করা হয়েছিল।এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে একদল সামরিক কর্মকর্তার অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তৎকালীন একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাস্তব কার্যক্রমও থেমে যায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে আবার বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়।
তবে চতুর্থ সংশোধনী, বাকশাল ব্যবস্থা এবং ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এখনো ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। এক পক্ষ এটিকে তৎকালীন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা সংকট মোকাবিলায় নেওয়া একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করে, অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, বহুদলীয় রাজনীতি ও মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত হয়েছিল।